ওয়াশিংটন, ডি.সি. স্থানীয সময়:
বাই এর মনোজ্ঞ নাটক উত্সব অনুষ্ঠিত
ডেস্ক রিপোর্ট, ওয়াশিংটন ডিসি, ১৩ জুন ২০১১: ১১ই জুন শনিবার ওয়াশিংটনে ছিল এক চমত্কার দিন। খুব ঝলমলে রৌদ্রস্নাত এক বিকেল। আর এই সুন্দর বিকেলে প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন এলাকায় অনুষ্ঠিত হলো “নাট্য উত্সব”। বাংলাদেশ অ্যাসোশিয়েশন অফ আমেরিকার এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। গত কয়েক মাস ধরে একঝাক তরুণ-তরুণীর নিরলস পরিশ্রমের ফলে সম্ভব হলো এ রকম একটি অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক মিলন মেলা। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মান্যবর আকরামুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ঘড়ির কাটা ধরে ঠিক সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ছুটি’র মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় এই নাট্যমেলার।
নাট্য উত্সবের প্রথম পরিবেশনা ছিল ধ্রূপদের প্রযোজনায় কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “ভুল স্বর্গ”। নাটকটির মঞ্চসজ্জা, আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে প্রতিটি চরিত্রের অভিনয় দেখে মনেই হচ্ছিলনা ওয়াশিংটনে বসে আছি। মন হারিয়ে যাচ্ছিলো ঢাকার বেইলি রোডের নাটক পাড়ায়। ধ্রূপদের প্রতিটি সদস্য তাদের অনবদ্য অভিনয় শৈলী দিয়ে আমাদের মন জয় করে নিলেন।
মর্ত্ত জগতের এক চিত্রকরের সর্গ যাত্রার দৃশ্য দিয়ে “ভুল স্বর্গের” যাত্রা শুরু।

কিন্তু, হায়! এ যেন এক উল্টো স্বর্গ! কারও এক মুহূর্ত সময় নেই, শুধুই কাজ আর কাজ। কারও সময় নেই চিত্রকরের মনে আকা এক সুন্দর স্বর্গের কথা সোনার। স্বর্গ তো এমন হবার কথা ছিলনা!


কিন্তু, এরি মধ্যে তরুণী “নবীণা” কে আকৃষ্ট করে চিত্রকরের কল্পনায় আকা এক সুন্দর স্বর্গের গল্প।

নবীণার জগতও রঙ্গীন হয়ে যায়। তার প্রতিটি মুহূর্ত কাটে এই সুন্দর স্বর্গের কল্পনায়।

ধীরে ধীরে সমগ্র স্বর্গবাসীর মনে দাগ কাটে একই কল্পনার ছোয়া। “ভুল স্বর্গ” এখন যেন অন্য এক জগত।

চিত্রকরকে করা হয় বিচারের মুখোমুখি। স্বর্গদূতকে করা হয় ভর্ত্সনা এমন একজন লোককে স্বর্গে আনার জন্য। চিত্রকর সানন্দে রাজি হয় শাস্তি স্বরূপ তাকে মর্তে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তে। মর্ত জগতই তার জন্য স্বর্গ স্বরূপ, কেননা চিত্ত সেথা ভয় শূন্য! চিত্রকরের ভাবনায় আপন শৈলী চর্চা করা যায় যেখানে, তাইতো স্বর্গ!

নবীণাও এই বাণীতে দীক্ষিত হয়ে স্বর্গলোক ত্যাগ করে মর্ত লোকে যাত্রার জন্য প্রস্তুত হয়। তার এই যাত্রার সাথী হবে চিত্রকর।

নাটকটিতে চিত্রকর চরিত্রে অভিনয় করেন ওয়াসিউল ইসলাম গর্কী। আর নবীণার চরিত্রে ছিলেন সাবরিনা চৌধুরী ডোনা। তাদের দুইজনের অনবদ্য অভিনয় দীর্ঘদিন মনে থাকবে। অন্যান্য চরিত্র রূপদান করেন- আমীরুল রমি, চমন জামিল, হাসনাত খান শীখা, কাকলী ইসলাম কেয়া, কামাল আহমেদ তুষার, মাসুদ হাসান, মেরিনা রহমান, মোহাম্মদ জামিল, মুহাম্মদ সিদ্দিকী রমি, প্রিয়লাল কর্মকার, শওকত খান দীপু, সৈয়দ হাসান অঞ্জন এবং তাজ হাসান। এরা সবাই প্রশংসার দাবিদার চমত্কার অভিনয় শৈলীর জন্য। কন্ঠে ছিলেন- অনুব্রত চৌধুরী, ডোরোথী বোস, হিরণ চৌধুরী, কামাল আহমেদ তুষার, মেরিনা রহমান এবং তাহমিনা লিমা। নৃত্যে ছিলেন- অদিতি চৌধুরী, আনিকা মাহমুদ, প্রিয়াল হালদার এবং সিল্ভী জামিল। নৃত্য নির্দেশনায়- আরফিন হায়দার, তাহেরা কিবরিয়া অনু এবং রুমা খান। তবলায়- সাধক কুমার চক্রবর্তী। নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন- অনুব্রত চক্রবর্তী।
নাট্য উত্সবের এর পরের পরিবেশনা ছিল বাই এর নিজস্স প্রযোজনা “ঘুড়ি”। গ্রাম বাংলার এক ডানপিঠে ছেলে সেলিম। গ্রামের অবস্থাপন্ন চেয়ারম্যান এর ছেলে হবার সুবাদে, সেলিম সারা গ্রাম শাসন করে বেয়ায় তার দুষ্টামি দিয়ে। পড়লেখার প্রতি মন নেই তার!


গ্রামের জনগণ তেক্ত বিরক্ত হয়ে চেয়ারম্যান এর কাছে অভিযোগ করেও কোনও সুফল পায় না।

এরি মধ্যে সেলিমের নজর পড়ে তরুণী বাতাসির দিকে।

বাতাসি সেলিমের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্তাখ্যান করলেও পরে পারিবারিক চাপে বিয়ে করে সেলিম কে। সেলিম-বাতাসির সংসার সুখেই কাটতে থাকে।

পিতার অনুরোধে সেলিম রাজি হয় জীবিকার সনধানে বিদেশ যাত্রার। বাতাসিও তাকে উত্শাহ যোগায় এক সুন্দর ভবিষসতের আসায়। কেননা, এখন সে এক সন্তানের পিতা।

সেলিম যাত্রা করে সপ্নের দেশ দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে। কিন্ত অতি দ্রুত আবিষ্কার করে সপ্নের সাথে বাস্তবতার কোনই মিল নেই। সার দিন শুধু হাড় ভাঙ্গা খাটুনি।

ধীরে ধীরে দিন যায়। সেলিম বাতাসির ছেলের এখন সাত বছর বয়স। সেলিম বুজতে পারে, তার সন্তানের সুন্দর ভবিষসতের জন্য হলেও তার এই কষ্ট মেনে নিয়েই এই সুদূর প্রবাসে পড়ে থাকতে হবে। সে বাতাসির কাছে চিঠি লিখে তাদের সন্তানকে শিক্ষিত করার জন্য, যাতে সে বড় হয়ে এক সুন্দর জীবন গড়তে পারে। সেলিম স্বপ্ন দেখে এক দিন সে দেশে ফিরে গেছে তার পরিবারের কাছে। কিন্তু হায়! স্বপ্ন আর বাস্তবতা কী আর এক হয়?
বক্তব্যধর্মী এই নাটকটির কাহিনী চিন্তা, পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ছিলেন কামরুল খান লিংকন, নাট্যরূপ ও সংলাপ সাফি দেলওয়ার কাজল। সেলিমের চরিত্রে অভিনয় করেন- কামরুল খান লিংকন। বাতাসির চরিত্রে- রুমা খান। এ ছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে- ওমর, আসিব, হাসিব, মহতশিনুর, মুস্তাবিনুর, ফ্রাঙ্ক, নিয়াজ, এন্ড্রু, রায়ান, লিটন, সালদ্দিন, ন্যান্সি কামাল, মুশাররফ হুসেন, মাহফুজুর রহমান, নুঝট, সিলিকা, মেহরান, সাকুরা, আয়েশা, শনিন, সানি ও পলাশ। সংগীতে- পুলি রানী বালা, কী বোর্ড- ডেভিড রাণা, তবলা- আশীষ, গিটার- শুভ্র। নৃত্যে- ক্যাথরীন, উড়নিশা, আদলিন, ঝুমা, কাতরিনা, এথিকা, সাকুরা ও রুমা খান। নৃত্য পরিচালনা- রুমা খান।
ছবি মেলা
MEMBERS LOGIN
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার




























































































































































